...
শিরোনাম
ফল আর সংস্কৃতির মেলবন্ধনে প্রাণবন্ত আয়োজন, কুমিল্লা সাংস্কৃতিক জোটের ব্যতিক্রমী ফলাহার উৎসব ⁜ ‘আজকের ধানক্ষেত, আগামী দিনের মহানগর’— কুমিল্লার নগর ভবন নিয়ে দূরদর্শী পরিকল্পনার পক্ষে মত ⁜ ব্রাহ্মণপাড়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে ২৫০ পিস ইয়াবাসহ তরুণ-তরুণী গ্রেপ্তার ⁜ হৃদয় হত্যার বিচার দাবিতে চৌদ্দগ্রামে উত্তাল জনতা, মহাসড়কে বিক্ষোভ ও অবরোধ ⁜ পরিবেশ রক্ষায় বরুড়ায় ‘২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির উদ্বোধন ⁜ অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস, টাইগারদের জন্য ২ কোটি টাকার বোনাস ঘোষণা ⁜ ইরানে রেকর্ডসংখ্যক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিকে ক্ষমা, ইতিহাসে প্রথম বলে দাবি ⁜ ৩৫৯ কোটি টাকার ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের মধ্যেই বদলি নিয়ে বিতর্ক ⁜ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ছাপ, পোশাকে শিকড়ের গল্প বললেন সঞ্জয় ⁜ কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন বিএনপি নেতা উদবাতুল বারী আবু ⁜ চৌদ্দগ্রামে বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীদের সাফল্য, কম খরচে বিদ্যুৎ প্রকল্পে সবার নজর ⁜ ক্যানসারের বিরুদ্ধে মানবতার জয়গান দেবীদ্বারে ৩৮ রোগীর পাশে মানবিক উদ্যোগ ⁜ ঢাকায় এসেই সম্পর্কের নতুন বার্তা, ‘ভারত-বাংলাদেশ একসঙ্গে হলে ১৬০ কোটির শক্তি’ ⁜ রাতেই বদলে যেতে পারে আবহাওয়া, ঢাকাসহ ১৩ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কবার্তা ⁜ 'পে স্কেল কার্যকর হবেই, বেতন বাড়লে দুর্নীতিও কমবে’—অর্থমন্ত্রীর দৃঢ় বার্তা ⁜ বৈশ্বিক বিভ্রাটে অচল ফেসবুক, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভোগান্তিতে ব্যবহারকারীরা ⁜ ফুটবল মাঠ থেকে জন্মসনদে তারকারা, দক্ষিণ আমেরিকায় শিশুদের নামকরণে মেসি-নেইমার ঝড় ⁜ সংরক্ষিত আসনে নতুন দায়িত্বে রাশেদা বেগম হীরা, কুমিল্লা-৪ ও ১১ আসনে সমন্বয়ক ভূমিকা ⁜ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ঘটনার পর ইউএনওর উদ্যোগে ঘরে ফিরলেন বৃদ্ধ বাবা ফজল করিম ⁜ গৌরীপুরে এমইপি গ্রুপের সহযোগী সম্মেলন, সফল ব্যবসায়ীরা পেলেন সম্মাননা ও আকর্ষণীয় পুরস্কার ⁜
Author Photo

প্রতিবেদক: Nayan Dewanji | ক্যাটেগরি: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও কৃতি সন্তান | প্রকাশ: 6 Jul 2025, 12:00 AM

১০১তম জন্মবার্ষিকী গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি যাদু মিয়া তোমায় News Image
এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া।।
 
জন্মালে মরতে হবে এটাই স্বাভাবিক এবং চিরসত্য। তবে এই মরণের মাঝে কিছু মরণ থাই পাহাড়ের চেয়ে ভারী বোধ হয়। জাতীয় নেতা মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মৃত্যু সে কথাটি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছে অনেককেই। মানুষ মাত্রই দোষে এবং গুণে সমৃদ্ধ। কোন মানুষই বিতর্কের উর্দ্ধে থাকতে পারে না, থাকেও না। যাদু মিয়ার সম্পর্কেও বিতর্ক দীর্ঘসময়ের।
আমাদের রাষ্ট্রে এবং সমাজে রাজনৈতিক প্রশ্নের জটসমূহ যখন জটিল থেকে জটিল আকার ধারন করতে থাকে, যাদু মিয়া সম্পর্কিত বিতর্কও নতুন নতুন মাত্রা অর্জন করতে থাকে। রাজনীতিতে একটি অংশ তাঁকে একেবারে খারিজ করতে পারলে বেঁচে যান মনে হয়। আর অন্য অংশটি খুব বেশী স্মরণের প্রয়োজনও বোধ করে না। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যে দলটিকে প্রতিষ্ঠিত করেছে, নিজের দলের প্রতীক তুলে দিয়েছেন তাদের হয়তো মনেই নেই মশিউর রহমান যাদু মিয়া নামে কেউ জড়িত ছিলেন তাদের জন্মের বেদনার সাথে।
জীবন ও প্রাপ্তির পূর্ণতার মধ্যে দ্বন্ধ থাকে চিরকালই। তবে প্রত্যেকের ক্ষেত্রে তা একই ভাবে দেখা যায় না। কারও কারও জীবনে প্রাপ্তি ও পূর্ণতার একসাথে সমন্বয় হয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসাবে দেখা দেয়। যার জীবনে সেটা দেখা দেয় সাধারণ মানুষ সে জীবনকে ভালবাসে, শ্রদ্ধা করে এবং স্মরণ করে। আমাদের কালে এমনই একজন মানুষ হচ্ছেন জাতীয় নেতা মশিউর রহমান যাদু মিয়া।
যাদু মিয়া আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন ১৯৭৯সালের ১২মার্চ, পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ ৪৫ বছর। কিন্তু যে জীবনকে রেখে গেছেন অসংখ্য অনুসারী, অনুরাগী ও গুনমুগ্ধকরদের মাঝে-সে জীবনের মৃত্যু নাই। সে জীবন বেঁচে থাকে কালের যাত্রা পথে, মানুষের জীবন চলার পথের আলোক বর্তিকা হিসাবে। জীবনের যে পরিচয় যাদু মিয়া রেখে গেছেন তার ইতিহাস অনেক দীর্ঘ। পঞ্জিকার হিসাবে তা হয়েছে প্রায় চার দশক। নশ্বর মানুষের জন্য এ এক পরিপূর্ন জীবনই বটে-যদিও কখনো কখনো তা ঈর্ষনীয়।

১৯২৪ সালের ৯ জুলাই নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছাত্রজীবনেই গণমানুষের কল্যাণে রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় তিনি বার্মা গিয়ে যুদ্ধাহতদের সেবায় আত্মনিয়োগ করেন। তেতাল্লিশ মহাদুর্ভিক্ষের সময় রংপুরের চরাঞ্চলে প্লেগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করেন। এর স্বীকৃতিস্বরূপ তার নামানুসারে একটি চরের নাম হয় ‘যাদুর চর’। ১৯৪৬ সালে দাঙ্গার সময় হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির লক্ষ্যে হত্যাযজ্ঞের বীভৎসতার ছবি তুলে বিশেষ বুলেটিন প্রকাশ করেছিলেন। ফলে ব্রিটিশ সরকার তাকে গ্রেফতার করে। দিল্লিতে তার বিচার অনুষ্ঠিত হয়। তার যুক্তির কাছে সরকার পরাজিত হয়ে বিশেষ স্কোয়াড দিয়ে বাড়ি পৌঁছে দেয়। তার প্রচেষ্টায়ই সেই অঞ্চলে দাঙ্গা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে জেলা বোর্ডের কনিষ্ঠতম চেয়ারম্যান হিসেবে পরপর দু’বার নির্বাচিত হন। ১৯৫৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগের যুব উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। একই সালে মওলানা ভাসানীর আহ্বানে কাগমারী সম্মেলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। ১৯৬২ সালে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং পার্লামেন্টে বিরোধী দলের উপনেতা ছিলেন। ১৯৬৩ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলনের জন্য গ্রেফতার হন। ষাটের দশকের শেষ দিকে ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক হন এবং আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে সোচ্চার দাবি উপস্থাপন করেন। ভাসানীর আহ্বানে জাতীয় পরিষদের সদস্যপদ ত্যাগ করেন। ১৯৬৯ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের টোবাটেকসিংয়ে কৃষক সম্মেলনে ইয়াহিয়া খানকে গাদ্দার বলার কারণে তাকে গ্রেফতার করে সাত বছর সশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ পল্টন ময়দানে মওলানা ভাসানীর আহ্বানে অনুষ্ঠিত জনসভায় ন্যাপের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ এবং প্রতীকী পতাকা উত্তোলন করেন। ১৯৭৪ সালে গ্রেফতার ও ১৯৭৫ সালের নভেম্বরে তিনি কারামুক্ত হন। ১৯৭৬ সালে ভাসানীর নেতৃত্বে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লং মার্চের প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। ভাসানীর মৃত্যুর পর ন্যাপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

প্রতিটি সমাজ তার ঐতিহাসিক প্রয়োজনেই জন্ম দেয় শ্রেষ্ট সন্তানদের। আমাদের জাতীয় ইতিহাসের তেমনই এক শ্রেষ্ঠ সন্তান হচ্ছেন যাদু মিয়া। যে কোন ধরনের সমস্যা নিজের হাতে নিয়ে তা নিয়ন্ত্রনের জুড়িও ব্যতিক্রম। কোথায় কী বলতে হবে, কতটুকু বলতে হবে-সবই যেন ছিল তাঁর নিক্তিতে মাপা। সব কিছু মিলিয়েই যাদু মিয়া অপ্রতিদ্ধন্দী, অদ্বিতীয় ছিলেন। ব্যক্তি যাদু মিয়া এবং নেতা যাদু মিয়ার পার্থক্য খুঁজে পাওয়া বড়ই কষ্টের।

কথা বলতেন মেপে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত বলতেন না। আর যা বলতেন গুছিয়ে বলতেন। তাঁর কথার ভিতর যেন যাদুর স্পর্শ ছিল। অসামান্য ছিল তাঁর ব্যক্তিত্ব। তাই বলে তিনি ‘অতিমানব’ ছিলেন না। রাজনৈতিক ক্যারিশমা কিংবা কর্মদক্ষতাই তাঁকে কিংবদন্তী করে তুলেছিল সারা দেশে। ইতিহাস কিংবা ইতিহাসের প্রেক্ষাপট আবর্তিত হয় যে কোন দেশের সমাজ-সংস্কৃতি ও জাতীয় চেতনার নিরিখেই। যে কোন দেশের কোন ব্যক্তি একজন মহান রাজনীতিবিদ হয়ে যান তাঁরই দেশের ইতিহাস কিংবা ঐতিহাসিকতার কারণে।

ইতিহাসের কারনেই কোন ব্যক্তি ইতিহাসের কালপরিক্রমায় একটি জাতিকে দান করেন অমিয় শক্তি, তাঁর সাহসিকতা, ত্যাগ, মনোবল, নীতি-নৈতিকতা এবং আদর্শিকতায় ঘুমন্ত জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জেগে ওঠে আকস্মাৎ। জাতি হয়ে ওঠে এক ভিন্নধরনের বিশেষনের অধিকারী। যাদু মিয়া ইতিহাসের তেমনই একজন সাহসী নেতৃত্ব।

যাদু মিয়ার মত অসাধারন মানুষটাকে বাদ দিয়ে আমাদের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস রচনা সম্ভব নয়। আপন মহিমায় মানুষকে ভালোবেসে তিনি হতে পেরেছেন এত বড় মানুষ। এত বড় নেতা। তাঁর কাছে মানুষই ছিল এক জাগ্রত শক্তি। মানবিক গুনাবলিতে তিনি ছিলেন গুনান্বিত। তাঁর নিষ্ঠা, সাধনা, ত্যাগ-তিতিক্ষা, কষ্ট, সহিষ্ণুতা এবং মানবিক গুনাবলী তাঁকে দান করেছে এক অনন্যতা। মানুষের যাবতীয় সৃষ্টি কর্মের মধ্যে রাষ্ট্রই হলো সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ন বিষয়। রাষ্ট্রের অস্তিত্ব¡ ব্যাতিরেকে অন্যবিধ মানবিক গুনাবলীর উৎকর্ষের কথা চিন্তাও করা যায় না।

গ্রীক দার্শনিক এরিষ্টোটলের মতে -‘যে মানুষ স্বভাবগতভাবেই রাষ্ট্রে বাস করবে না, সে হয়তো পশু নয়তো দেবতা’। আরব দার্শনিক ইবনে খালদুন রাষ্ট্রকে ‘অপ্রয়োজনের প্রয়োজনীয় বস্তুু’ বলে অভিহিত করেছেন।

যাদু মিয়া অনেক কিছু ছিলেন তাতে কোন সন্দেহ নেই। তিনি যে কাজ হাতে তুলে নিয়েছেন তাতেই সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন আবার ব্যর্থতার ছাপও আছে। রাজনীতির যাদুকর বলে খ্যাত যাদু মিয়া পরিচয়ের অন্তরালে অন্যবিধ প্রনিধানযোগ্য বৈশিষ্ট্য সমূহ ঢাকা পড়ে গেছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে যাদু মিয়া মূখ্যত মেধাবী ও দুরদর্শী রাজনীতিক হিসেবেই সমাধিক পরিচিত। যাদু মিয়া তাঁর রাজনীতি চর্চার মধ্য দিয়েই রাষ্ট্র চিন্তার বীজটি চারিয়ে তুলেছিলেন। রাজনীতিতে তিনি প্রয়োগ করেছেন একটা অভিনব কৌশল।

আজীবন তিনি সংগ্রাম করেছেন গণমানুষের মুক্তির জন্য। প্রতিবাদে প্রতিরোধে ও সংগ্রামে তিনি কখনো পিছপা হননি। জীবনের মোহের কাছে তিনি কখনো আত্মসর্ম্পন করেননি। রাজনীতি ক্ষমতার লড়াই। কিন্তু সেই ক্ষমতার লড়াই যখন নিছক ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে পরিনত হয় তখন সেই রাজনীতি মানুষের কোন কল্যাণ সাধন করতে পারে না। যাদু মিয়ার রাজনীতি হলো মানব কল্যানবাদের রাজনীতি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের রাজনীতি।

প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসী, বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী, অকুতোভয় অন্তর্ভেদী দৃষ্টি, দৃঢ় ইচ্ছা শক্তি ও প্রচন্ড আকর্ষনীয় ক্ষমতার অধিকারী এই সিংহ পুরুষটির জীবনে পাওয়ার চেয়ে ত্যাগই করেছেন বেশী। আমাদের দেশে কীর্তিমানদের মূল্যায়ন খুব একটা করতে দেখা যায় না। জীবনের সর্বক্ষেত্রে আমরা সীমাহীন সীমাবদ্ধতার শিকার। আমরা রাজনৈতিক আদর্শগত দ্বন্দ-সংঘাতের চেয়ে ব্যক্তিগত এবং দলীয় কোন্দলে বেশী জড়িয়ে পড়ি।

আমাদের রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত সকল আন্দোলন সংগ্রামেও আমাদের মাঝে নানা বিভেদ পরিলক্ষিত। এ বিভেদ ছিলো মত ও পথের। এত সব মতপার্থক্যের মাঝে দেশ এবং জাতির বৃহত্তর স্বার্থে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশের যে ক’জন ক্ষনজন্মা রাজনীতিক ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে উঠতে পেরেছেন তাঁদের মধ্যে একজন হচ্ছেন মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়া।

১৯৭৫ পরবর্তী পরিস্থিতির প্রয়োজনেই যাদু মিয়া জিয়াউর রহমানের সাথে আলোচনা শুরু করেন। আলোচনার উদ্দেশ্য ছিলো সামরিক শাসন থেকে গণতন্ত্রে উত্তরন। সেদিন তিনি একাজে এগিয়ে এসেছিলেন শান্তিপূর্ন উপায়ে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারা প্রবর্তনের লক্ষ্যে। যাকে তিনি ‘গণতন্ত্রে উত্তরনের প্রক্রিয়া’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। প্রথমে ফ্রন্ট পরে বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ। তিনি সেদিন উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন নিজ হাতে গড়া প্রগতিশীল গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগঠন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিকে। বোধহয় তাঁর মধ্যে একটা সন্দেহ ছিল। ত্যাগ করলেন ব্যক্তিগতভাবে তাঁর নিজের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়াস।

১৯৭৯ সালের ১৮-ই ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি’র নিরঙ্কুশ বিজয়ের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল অসাধারণ। নির্বাচনের আগে বিএনপি’র পক্ষে জনমত গড়ে তোলার জন্য তিনি দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত ছুটে বেড়ান। এতটুকু ক্লান্তি বা বিরক্তিবোধ করেননি। দুঃখের বিষয় নির্বাচনে বিএনপি যখন নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে জয় লাভ করলো এবং তিনি যখন তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচাইতে বড় সাফল্যের দ্বার প্রান্তে এসে উপনিত হলেন ঠিক সেই মুহুর্তে ১৯৭৯ সালের ১২ই মার্চ মত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এ মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। অনেক প্রশ্নও রয়েছে এ মৃত্যু নিয়ে। যে সকল প্রশ্নের মিমাংসা আজও হয় নাই।

নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ন্যায্যতা থাকার পরও হয়তো কোন ষড়যন্ত্রের কারণে সেই পদে তিনি আসীন হতে পারেননি। ষড়যন্ত্র ছিল গণতন্ত্র উত্তরণের বিরুদ্ধে যা আজও বেশ মাত্রায় বিরাজমান। তাই বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিনত করারও অপপ্রয়াস আজও চলছে। আজও প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হয় নাই প্রগতিশীল শক্তির জাতীয় ঐক্য। প্রধানমন্ত্রীর পদ মর্যাদায় তিনি সিনিয়র মন্ত্রী হলেন তাও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত সাফল্যের সাথে শান্তিপূর্ণ ভাবে এগিয়ে নেয়ার স্বার্থে। যাদু মিয়ার এ ধরনের ভূমিকাকে নিঃসন্দেহে চরম আত্মত্যাগ বলে উল্লেখ করলে বোধ হয় অত্যুক্তি হবেনা। আত্মত্যাগের মাধ্যমেই তিনি সমগ্র জাতির কাছে আজ হিরন্ময় উদ্ভাসিত।

বাম-ডান সকলের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিলো খুবই ভালো। তাঁর উদার সহযোগীতা পাননি এমন একজন বন্ধুও তা কখনো অস্বীকার করেন নি। তাঁর হৃদয় ছিলো বিস্তীর্ণ নীলিমার মতো। পারিবারিক সামন্ত ট্র্যাডিশন থেকে বেরিয়ে আসা এই আধুনিক মানসিকতার মানুষটি ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন অনাড়ম্বর, অতিব সাধারন। খুব সহজেই মিশে যেতেন যেকোন পরিবেশে। তবে কখনো বিসর্জন দেননি তাঁর আত্ম সম্মান বোধ।

আজ জন্মশতবার্ষিকীতেও নীলফামারীর ডিমলার খগাখড়িবাড়ির জোদ্দার পুত্র রাজনীতির কিংবদন্তী যাদু মিয়ার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনযাত্রা নিয়ে আমাদের কৌতুহল এক বিন্দুও কমেনি, বরং বেড়েছে। কেননা তাঁর রাজনীতি নিয়ে আলোচনা যতটা হয়েছে মানুষ যাদু মিয়া সম্পর্কে আলোকপাত তুলনামূলকভাবে অনেক কম। এক সময় রুচিশীল রাজনীতিকরা তাঁর সান্নিধ্য ও রসালাপ শোনার জন্য তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করে থাকতেন। তারাও আজ হয়তো যাদু মিয়াকে ভুলে গেছেন। হয়তো এটাই স্বাভাবিক! যাদু মিয়ার জীবনের কথা বলার উত্তরসূরির অভাব আমাদের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দেয়।

 লেখকঃ এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া


ক্যাটেগরি: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও কৃতি সন্তান ট্যাগ: জাতীয়

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

লিংক কপি হয়েছে!

অন্যান্য খবর

ফল আর সংস্কৃতির মেলবন্ধনে প্রাণবন্ত আয়োজন, কুমিল্লা সাংস্কৃতিক জোটের ব্যতিক্রমী ফলাহার উৎসব
ফল আর সংস্কৃতির মেলবন্ধনে প্রাণবন্ত আয়োজন, কুমিল্লা সাংস্কৃত...

কুমিল্লায় সংস্কৃতি অঙ্গনের শিল্পী, সাহিত্যিক ও সুধীজনদের মিলনমেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ফলাহার...

‘আজকের ধানক্ষেত, আগামী দিনের মহানগর’— কুমিল্লার নগর ভবন নিয়ে দূরদর্শী পরিকল্পনার পক্ষে মত
‘আজকের ধানক্ষেত, আগামী দিনের মহানগর’— কুমিল্লার নগর ভবন নিয়ে...

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নতুন নগর ভবনের অবস্থান নিয়ে চলমান বিতর্কে দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনার ওপর গু...

ব্রাহ্মণপাড়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে ২৫০ পিস ইয়াবাসহ তরুণ-তরুণী গ্রেপ্তার
ব্রাহ্মণপাড়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে ২৫০ পিস ইয়াবাসহ তরুণ-তরুণী...

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে ২৫০ পিস ইয়াবাসহ এক তরুণ ও এক তরুণীকে গ্রেপ্...

হৃদয় হত্যার বিচার দাবিতে চৌদ্দগ্রামে উত্তাল জনতা, মহাসড়কে বিক্ষোভ ও অবরোধ
হৃদয় হত্যার বিচার দাবিতে চৌদ্দগ্রামে উত্তাল জনতা, মহাসড়কে বি...

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ধোড়করা বাজারে সিএনজি অটোরিকশা চালক মো. হৃদয় (২৪) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দোষীদের গ...

পরিবেশ রক্ষায় বরুড়ায় ‘২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির উদ্বোধন
পরিবেশ রক্ষায় বরুড়ায় ‘২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির উদ্বোধন

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়ন সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে কুমিল্লার বরুড়ায় ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ...

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস, টাইগারদের জন্য ২ কোটি টাকার বোনাস ঘোষণা
অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস, টাইগারদের জন্য ২ কোটি টাকার বোন...

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ জিতে নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট...

ইরানে রেকর্ডসংখ্যক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিকে ক্ষমা, ইতিহাসে প্রথম বলে দাবি
ইরানে রেকর্ডসংখ্যক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিকে ক্ষমা, ইতিহাসে...

 ইরানে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির সাজা মওকুফ করে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছ...

৩৫৯ কোটি টাকার ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের মধ্যেই বদলি নিয়ে বিতর্ক
৩৫৯ কোটি টাকার ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের মধ্যেই...

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণে ৩৫৯ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ বিতরণে অনিয়ম ও কমিশন বাণি...

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ছাপ, পোশাকে শিকড়ের গল্প বললেন সঞ্জয়
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ছাপ, পোশাকে শিকড়ের গল্প বললেন সঞ্জয়

বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনী আয়োজনে আলো ছড়িয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংগীতশিল্পী সঞ্জয়। বিশ্বখ্যাত নৃত...

কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন বিএনপি নেতা উদবাতুল বারী আবু
কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে চুক্তিভি...

কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন উদবাতুল বারী আবু। তি...

চৌদ্দগ্রামে বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীদের সাফল্য, কম খরচে বিদ্যুৎ প্রকল্পে সবার নজর
চৌদ্দগ্রামে বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীদের সা...

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প প্রদর্শন...

ক্যানসারের বিরুদ্ধে মানবতার জয়গান দেবীদ্বারে ৩৮ রোগীর পাশে মানবিক উদ্যোগ
ক্যানসারের বিরুদ্ধে মানবতার জয়গান দেবীদ্বারে ৩৮ রোগীর পাশে ম...

দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: ক্যানসার শুধু একটি রোগ নয়, অনেক পরিবারের জন্য এটি দীর্ঘ সংগ্রাম ও অর...

সময়
আজকের তারিখ
ইংরেজি তারিখ বাংলা সন
প্রিন্ট নিউজ
...
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
➤ ফল আর সংস্কৃতির মেলবন্ধনে প্রাণবন্ত আয়োজন, কুমিল্লা সাংস্কৃতিক জোটের ব্যতিক্রমী ফলাহার উৎসব
➤ ‘আজকের ধানক্ষেত, আগামী দিনের মহানগর’— কুমিল্লার নগর ভবন নিয়ে দূরদর্শী পরিকল্পনার পক্ষে মত
➤ ব্রাহ্মণপাড়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে ২৫০ পিস ইয়াবাসহ তরুণ-তরুণী গ্রেপ্তার
➤ হৃদয় হত্যার বিচার দাবিতে চৌদ্দগ্রামে উত্তাল জনতা, মহাসড়কে বিক্ষোভ ও অবরোধ
➤ পরিবেশ রক্ষায় বরুড়ায় ‘২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির উদ্বোধন
➤ অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস, টাইগারদের জন্য ২ কোটি টাকার বোনাস ঘোষণা
➤ ইরানে রেকর্ডসংখ্যক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিকে ক্ষমা, ইতিহাসে প্রথম বলে দাবি
➤ ৩৫৯ কোটি টাকার ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের মধ্যেই বদলি নিয়ে বিতর্ক
➤ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ছাপ, পোশাকে শিকড়ের গল্প বললেন সঞ্জয়
➤ কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন বিএনপি নেতা উদবাতুল বারী আবু
➤ চৌদ্দগ্রামে বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীদের সাফল্য, কম খরচে বিদ্যুৎ প্রকল্পে সবার নজর
➤ ক্যানসারের বিরুদ্ধে মানবতার জয়গান দেবীদ্বারে ৩৮ রোগীর পাশে মানবিক উদ্যোগ
➤ ঢাকায় এসেই সম্পর্কের নতুন বার্তা, ‘ভারত-বাংলাদেশ একসঙ্গে হলে ১৬০ কোটির শক্তি’
➤ রাতেই বদলে যেতে পারে আবহাওয়া, ঢাকাসহ ১৩ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কবার্তা
➤ 'পে স্কেল কার্যকর হবেই, বেতন বাড়লে দুর্নীতিও কমবে’—অর্থমন্ত্রীর দৃঢ় বার্তা
➤ বৈশ্বিক বিভ্রাটে অচল ফেসবুক, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভোগান্তিতে ব্যবহারকারীরা
➤ ফুটবল মাঠ থেকে জন্মসনদে তারকারা, দক্ষিণ আমেরিকায় শিশুদের নামকরণে মেসি-নেইমার ঝড়
➤ সংরক্ষিত আসনে নতুন দায়িত্বে রাশেদা বেগম হীরা, কুমিল্লা-৪ ও ১১ আসনে সমন্বয়ক ভূমিকা
➤ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ঘটনার পর ইউএনওর উদ্যোগে ঘরে ফিরলেন বৃদ্ধ বাবা ফজল করিম
➤ গৌরীপুরে এমইপি গ্রুপের সহযোগী সম্মেলন, সফল ব্যবসায়ীরা পেলেন সম্মাননা ও আকর্ষণীয় পুরস্কার
গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্কসমূহ
Logo
সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি ; বি এম মালেক রিপন, সম্পাদক ও প্রকাশক ; নয়ন দেওয়ানজী, সহকারী সম্পাদক ; মাইনুল আরেফিন তমাল, আইটি বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আলাউদ্দিন। হীরা ম্যানশন রামঘাট, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত এবং কালার প্লাস অফসেট প্রেস কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত।বার্তা, বাণিজ্যিক ও সম্পাদকীয় কার্যালয় :নূরজাহান ভিউ,অতীন্দ্র মোহন রায় সড়ক, কুমিল্লা।মোবাইল:০১৬৭৫ ৯৬৪ ৩৬৪,ইমেইল swadeshjournal@gmail.com
© 2026 Swadesh Journal. All rights reserved.
Design & Developed by: alauddinsir